বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:১২ এম
আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কে নস্যাৎ করতে আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে ‘কিং অব চিটাগাং’ কনভেনশন সেন্টারে এনসিপি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে আদালতকে আবারও দলীয়করণের এই প্রচেষ্টার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। বিচার বিভাগের সংস্কার, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সংগ্রাম শুরু করতে হবে। যে গণরায়ের ভিত্তিতে এই সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রায়কে নস্যাৎ করার কোনো চক্রান্ত মেনে নেয়া হবে না।’

আওয়ামী লীগের পতন স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার আদালতকে দলীয় এজেন্ডার হাতিয়ার বানিয়েই পতনের দিকে গিয়েছিল। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানাই–গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। জনগণের রায়ের ওপর দাঁড়িয়েই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হোক।’

চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতি ও শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে এনসিপি প্রধান বলেন, এই শহরে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নেতৃত্বে এই লড়াই সফল হবে না। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ এই শহরে ঠাঁই না পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

এ ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় এগারো দলের শীর্ষ নেতারা।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া