বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

তাপদাহে হাঁসফাঁস রংপুর, মাঠ-ঘাট ছেড়ে গাছতলায় মানুষ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
তাপদাহে হাঁসফাঁস রংপুর, মাঠ-ঘাট ছেড়ে গাছতলায় মানুষ

ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই তীব্র তাপদাহে হাঁসফাঁস করছে রংপুর অঞ্চল। প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামলেও প্রচণ্ড গরমে কাহিল হয়ে পড়ছেন তারা। মাঠ-ঘাট ছেড়ে অনেককে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বিভাগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক আয়নাল হক বলেছেন, ‘ঈদের পর দুই টাকা বেশি কামাই করমু, তারও উপায় নাই। পেটের দায়ে রিকশা ধরি বাইর হইলেও গরমে হামাক কাহিল করি ফেলাইচে। এত রইদোত কী রিকশা চলা যায়!’

রংপুর শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের রোদে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। শহরের বিভিন্ন স্থানে রিকশাচালকদের গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা কৃষি ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বোরো ধান কাটার মৌসুম চললেও প্রচণ্ড গরমে অনেক কৃষিশ্রমিক দুপুর হওয়ার আগেই কাজ গুটিয়ে নিচ্ছেন। নগরীর উত্তম বানিয়াপাড়া এলাকায় ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে গিয়ে কিছুক্ষণ পরই গাছতলায় আশ্রয় নেন কয়েকজন শ্রমিক।

তাদের একজন ষাটোর্ধ্ব নয়া মিয়া আলীর সঙ্গে কথা হয়। বলেছেন, ‘এই রইদোত জমিত একদণ্ড থাকা যায় না। গরমোত গাও সিদ্ধ হয়া গেইচে বাহে। না খ্যায়া থাকলেও কাম করার শক্তি নাই।’

তাপদাহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ। ফলে শহরজুড়ে বেড়েছে হাতপাখার চাহিদা। ফুটপাতে তালপাখা, বাঁশ, কাপড় ও সুতা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতপাখা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক দিন আগেও ১০ টাকার পাখা বিক্রি হতো, এখন তা ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাচারিবাজার এলাকায় হাতপাখা কিনতে আসা লাইলি বেগম বলেছেন, ‘কদিন ধরে খুব গরম পড়ছে, বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। হাতপাখা ছাড়া উপায় কী?’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমান আবহাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তারা বেশি করে পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তালশাঁসের চাহিদা। গরমে স্বস্তি পেতে নগরীর সুরভী উদ্যান, কাচারিবাজার, ওরিয়েন্টাল সিনেমা হলের গলিসহ বিভিন্ন স্থানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। সেখানে জমে উঠেছে তালের হাট।

খুচরা বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটা তালে তিনটা বিচি থাকে, প্রতিটা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর ব্যবসা খুব ভালো।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, রংপুরে বাণিজ্যিকভাবে তালের চাষ না থাকায় বাগেরহাট থেকে ট্রাকযোগে তাল আনতে হয়। তীব্র গরমের কারণে এবার চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ট্রাক তাল রংপুরে আসছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আপাতত গরম থেকে স্বস্তির কোনো আভাস নেই। ফলে রোদ, ঘাম আর বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে দিন পার করছেন রংপুরের মানুষ। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। মাঠ-ঘাট ছেড়ে তারা এখন ছায়াঘেরা গাছ-তলাতেই খুঁজছেন সামান্য স্বস্তি।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া