বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরুখের মতো চেহারা, অনুষ্ঠান প্রতি নেন আড়াই লাখ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
শাহরুখের মতো চেহারা, অনুষ্ঠান প্রতি নেন আড়াই লাখ

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের প্রত্যাবর্তন শুধু তার নিজের ক্যারিয়ার বা বলিউডের ব্যবসাকেই নতুন গতি দেয়নি, বদলে দিয়েছে তার মতো দেখতে অনেক মানুষের জীবনও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ইব্রাহিম কাদরি, যিনি এখন ‘ডুপ্লিকেট শাহরুখ’ হিসেবেই বেশি পরিচিত।

২০২৩ সালে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ এবং পরে ‘ডানকি’ দিয়ে শাহরুখ খান বক্স অফিসে দাপট দেখান। বিশেষ করে ‘জওয়ান’ মুক্তির প্রথম দিনেই ৭৫ কোটি রুপি আয় করে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড গড়ে। শাহরুখকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া উন্মাদনার প্রভাব পড়ে তার মতো দেখতে শিল্পীদের জীবনেও। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইব্রাহিম কাদরি।

ভারতের গুজরাটের জুনাগড়ের বাসিন্দা ইব্রাহিম কাদরি ছোটবেলা থেকেই মানুষের কাছ থেকে শুনে এসেছেন, তিনি দেখতে অনেকটা শাহরুখ খানের মতো। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “যখন আমার ১৫-১৬ বছর বয়স ছিল, তখন থেকেই সবাই আমাকে শাহরুখ খান বলে ডাকত। স্কুল-কলেজে পড়ার সময়ও একই কথা শুনতে হতো।”

তবে তার জীবন শুরুতে মোটেও আলো ঝলমলে ছিল না। সংসারের প্রয়োজনে তিনি দেয়াল রং করা, হোর্ডিং তৈরি এবং দোকানের সাইনবোর্ড আঁকার কাজ করতেন। ইব্রাহিম উল্লেখ করেন, “বাড়িতে খুব বেশি কিছু ছিল না। যা আয় করতাম, তা খাবার আর বিল মেটাতেই চলে যেত।”

আরও পড়ুন

হজের পর সব ছেড়েছি, কিন্তু ড্রামসের প্রতি টানটা রয়ে গেছে : নাজিয়া সামান্থা

০২ জুন ২০২৬

২০১৭ সালে শাহরুখ অভিনীত ‘রইস’ মুক্তির পর তার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। সে সময় তার চেহারা, গোঁফ-দাড়ি অনেকটাই ‘রইস’-এর শাহরুখের মতো ছিল। ইব্রাহিমের ভাষ্য, “মানুষ আমাদের দেখলে পাগল হয়ে যেত। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার পরিচিতি বাড়তে শুরু করে। ফলোয়ার বাড়ে। বিভিন্ন জায়গায় গেলে মানুষ চিৎকার করত, কাঁদত, এমনকি টানাটানিও করত। শুরুতে এসব কীভাবে সামলাতে হয়, বুঝতাম না।”

একবার রাজকোটের খান্ধেরি স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গিয়ে ভক্তদের ভিড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে ছিলেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে শুরু করেন ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, “এরপর আমি শরীরের গঠন, স্টাইলিং, এমনকি নাচ নিয়েও কাজ শুরু করি। আগে নাচ জানতাম না। শাহরুখের সিনেমা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শেখার জন্যও দেখতে শুরু করি। মানুষ আমাকে যেভাবে দেখতে চায়, সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

বর্তমানে জন্মদিন, বিয়ে ও বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠানে শাহরুখ খানের আদলে পারফর্ম করেন ইব্রাহিম। একসময় যেখানে শাহরুখের অনুকরণকারীরা একটি অনুষ্ঠানের জন্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার রুপি পারিশ্রমিক পেতেন, সেখানে এখন তিনি একেকটি অনুষ্ঠানের জন্য দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন।

আরও পড়ুন

সাভারে হেনস্তার শিকার নায়লা নাঈম

০২ জুন ২০২৬

এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “অনেকে আমাকে ডুপ্লিকেট, লুকঅ্যালাইক বা কপিক্যাট বলে। শুরুতে খারাপ লাগত। এখন মনে করি, অনুকরণও একটি শিল্প। আমি কোনো সস্তা সংস্করণ নই। আমি একটি মানদণ্ড তৈরি করেছি। এখন মানুষ আনন্দের সঙ্গেই সেই মূল্য দেয়।”

মজার বিষয় হলো, যার সঙ্গে এত মিল, সেই শাহরুখ খানের সঙ্গে এখনো দেখা করার চেষ্টা করেননি ইব্রাহিম। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “শাহরুখের সঙ্গে দেখা করা আমার কাছে ফেরারি গাড়ির স্বপ্নের মতো। স্বপ্ন দেখার মধ্যে যে রোমাঞ্চ আছে, সেটা হারাতে চাই না।”

বর্তমানে ৪৯ বছর বয়সী ইব্রাহিম এখনও অবিবাহিত। তার ভাষ্য, “আমি কখনো নিজেকে বুড়ো মনে করি না। বাচ্চাদের সঙ্গে খেলি, হাসি। সেটাই আমাকে তরুণ রাখে। পরিবারকে বলেছি অপেক্ষা করতে। আমি এখনো এই যাত্রাটাই উপভোগ করতে চাই।”

শাহরুখ খানের জনপ্রিয়তা যেমন কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছে, তেমনি তার সঙ্গে চেহারার অদ্ভুত মিল এক সাধারণ মানুষের জীবনও আমূল বদলে দিয়েছে। ইব্রাহিম কাদরির গল্প সেই বাস্তবতারই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া