বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নাটোরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫৬ পরিবার পেলো ২ টি করে ছাগল ও উপকরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
নাটোরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫৬ পরিবার পেলো ২ টি করে ছাগল ও উপকরণ

অমর ডি কস্তা, নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ৫৬ অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার পেলো ২টি করে ছাগল ও ৫টি করে প্লাস্টিকের ম্যাট। সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবনমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৫৬ পরিবারের মাঝে মোট ১১২ টি ছাগল ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে প্রধান অতিথি নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ছাগল ও উপকরণ বিতরণের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ।

তবে ছাগল ও উপকরণ পেলেও এই প্যাকেজের আওতায় ৫০ কেজি করে ছাগলের খাদ্য, ২টি টিন ও ৪টি করে পিলার উপকারভোগীরা পাননি। এতে ছাগল বাড়িতে নিয়ে গেলেও তা পালন ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে অসহায় ও দরিদ্র সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীরা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্থানীয় নেতা সুনীল কুমার ক্ষোভের সাথে বলেন, এই ছাগল কোথায় নিয়ে রাখবো? ছাগল পালনের ঘর তৈরির উপকরণ ও খাদ্য না দিলে অনেকেই দুই একদিন পর লালন করতে না পেরে বিক্রিও করে দিতে পারে। ফলে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিফল হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ভেন্ডর শুধু ছাগল ও ম্যাট সরবরাহ করেছে। আমরা তা-ই দিয়েছি। অন্যান্য উপকরণের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে, শীঘ্রই সরবরাহ করলে আমরা তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করবো।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া