বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সারজিস আলমকে কড়া বার্তা নীলা ইসরাফিলের, এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
সারজিস আলমকে কড়া বার্তা নীলা ইসরাফিলের, এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর অন্যতম নেতা সারজিস আলমকে ঘিরে প্রকাশ্যে কঠোর মন্তব্য করেছেন দলটির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এনসিপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জনসমর্থন এবং দলটির অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।

ফেসবুক পোস্টে নীলা ইসরাফিল লেখেন, বর্তমানে বিরোধী দলে থাকলেও জনগণ এনসিপিকে গ্রহণ করবে না। তিনি দাবি করেন, জনসমর্থন হারালে কোনো রাজনৈতিক শক্তির টিকে থাকা সম্ভব নয় এবং এনসিপির পতনের কাউন্টডাউন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

স্ট্যাটাসে তিনি সারজিস আলমকে উদ্দেশ করে আরও লেখেন, রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও জনগণের রায়ই শেষ কথা। জনগণের আস্থা অর্জন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা টিকে থাকবে আর কারা হারিয়ে যাবে—সেটি শেষ পর্যন্ত জনগণই নির্ধারণ করবে। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করার পাশাপাশি এনসিপির অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নীলা ইসরাফিল তার পোস্টে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্ত ও বিভ্রান্তিকর অবস্থান রাজনৈতিক পতনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। তাই সময় থাকতে জনগণের কাছে জবাবদিহি করারও আহ্বান জানান তিনি।

তার এ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া