বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

তদন্তে বাপার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত ফুলজোড় নদী, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ১:০৩ পিএম
তদন্তে বাপার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত ফুলজোড় নদী, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

 

আমিনুল ইসলাম হিরো, সিরাজগঞ্জ :

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হয়ে সংকটাপন্ন হয়ে পড়া ফুলজোড় নদী সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দিনব্যাপী প্রতিনিধি দল নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করে দূষণের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ূন কবির সুমন ও হালিম দাদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য হাফিজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট পারভীন আক্তার, বাপা সিরাজগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার কর, সদস্য আশরাফ আলী ও আঞ্জারুল ইসলাম, পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীনভয়েস সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি আনজেরুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

প্রতিনিধি দল প্রথমে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কুনিঘাট এলাকায় যান। সেখানে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলার দৃশ্য তারা প্রত্যক্ষ করেন। পরে একই উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছি ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন, যেখানে ট্যাংকলরির মাধ্যমে নদীতে বর্জ্য ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

এরপর প্রতিনিধি দল মির্জাপুর ইউনিয়নের চমর পাথালিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড কারখানা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুলজোড় নদীতে তরল বর্জ্য নির্গমনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা নদী দূষণের কারণে কৃষিকাজ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনে ক্ষয়ক্ষতি এবং জীবন-জীবিকার সংকটের কথা তুলে ধরেন।

পরিদর্শন শেষে বাপার নেতৃবৃন্দ রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তারা নদী দূষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীর পানি ব্যবহারযোগ্য করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, টানা কয়েক বছর ধরে নদীর উজানে অবস্থিত শিল্পকারখানাগুলোর বিষাক্ত বর্জ্যে ফুলজোড় নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রাকৃতিক মাছ, খাঁচায় চাষ করা মাছসহ বিভিন্ন জলজপ্রাণী মারা যাচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। দূষণের কারণে নদীর পানি দিয়ে কৃষিকাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি নদীতে গোসল করতে নামলে বিভিন্ন চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টের সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৮০ কিলোমিটার নদীপাড়ের অন্তত ২০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকায় এর প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলন ভণ্ডুল করতে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় আন্দোলনকারীরা। তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ফুলজোড় নদী সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া