বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

“ভোটে কারচুপির অভিযোগ, পদত্যাগে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
“ভোটে কারচুপির অভিযোগ, পদত্যাগে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, প্রকৃত অর্থে তিনি নির্বাচনে পরাজিত হননি, বরং পরিকল্পিতভাবে ভোটে কারচুপি করে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (বিকেল) কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। মমতা বলেন, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। তাহলে পদত্যাগ করব কেন?”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে অনেক কিছু সহ্য করেছেন, তবে এখন আর নীরব থাকবেন না। “আমি এখন সাধারণ মানুষের মতোই লড়াই করব। রাস্তায় ছিলাম, আবার রাস্তায় নামব—অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে,”—বলেন তিনি।

নির্বাচন পরিচালনায় ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন মমতা। তার অভিযোগ, কমিশনের সহায়তায় শতাধিক আসনে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি ফল মেনে নিতেন বলেও উল্লেখ করেন।

এ সময় বিরোধী জোট আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং আগামী দিনে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া