সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

হাটহাজারীতে দুই এমপির ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক বাস্তবতা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৫৪ এম
হাটহাজারীতে দুই এমপির ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক বাস্তবতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আলোচনায় হাটহাজারী

এমবি টিভি বিশেষ প্রতিবেদনঃ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা এখন জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই উপজেলা থেকে একই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন দুইজন সংসদ সদস্য। একজন সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, অন্যজন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না বলেই স্থানীয়ভাবে এটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই উপজেলা থেকে দুইজন প্রভাবশালী আইনজীবী ও রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিনিধির সংসদে অবস্থান হাটহাজারীর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। নির্বাচনের পর তাকে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতা দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং সেখানে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের পুত্র হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের।

নির্বাচনের সময় হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেন তিনি। নির্বাচনের পর এলাকায় সড়ক উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তার সংসদ সদস্য হওয়া চূড়ান্ত হয়। তিনিও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত।

তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা। পারিবারিকভাবেই রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই নেত্রী ছাত্রজীবন থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর তিনি লন্ডনে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি “ল কর্নারস্টোন” নামে নিজস্ব ল’ চেম্বার পরিচালনা করছেন। দেশের খ্যাতনামা আইনজীবীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় থাকার কারণে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। অতীতে একটি আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করলেও পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সরাসরি নির্বাচিত এমপি এবং একজন সংরক্ষিত নারী এমপির একসঙ্গে একই উপজেলার প্রতিনিধিত্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিনিধিত্ব ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা ও প্রভাব বিস্তারের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দলীয় রাজনীতি, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাটহাজারীর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে একযোগে কাজ করবেন দুই সংসদ সদস্য। শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হাটহাজারীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তারা—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

বর্তমানে পুরো হাটহাজারীজুড়ে আলোচনার বিষয় একটাই—একই উপজেলার দুই এমপি কীভাবে সামাল দেবেন উন্নয়ন ও রাজনীতির ভারসাম্য। তাদের কার্যক্রম কতটা জনমুখী ও সমন্বিত হবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।