বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাঙ্গামাটিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল যুগের সূচনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
রাঙ্গামাটিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল যুগের সূচনা

সর্বজিৎ চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আধুনিক ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ। এ লক্ষ্যে “অনলাইন বাস টার্মিনাল (OBT)” এবং সিএনজি থ্রি-হুইলার চালকদের ডিজিটাল ডাটাবেস কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাঙ্গামাটির লেকভিউ গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম’র পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক মিজ্ নাজমা আশরাফী। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, পরিবহন মালিক ও চালক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে সচেতন করতে “No Helmet, No Ride” সম্বলিত স্টিকার ও হেলমেট বিতরণ করে ট্রাফিক বিভাগ।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীর যাতায়াত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার অভাবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল সংশ্লিষ্টদের।

নতুন এই উদ্যোগের আওতায় শহরে চলাচলরত সিএনজি থ্রি-হুইলার ও চালকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪১৬টি সিএনজি ও সহস্রাধিক চালকের তথ্য নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধিত যানবাহনে কিউআর কোড সংবলিত ডিজিটাল স্টিকার লাগানো হবে। যাত্রীরা মোবাইল ফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকের ছবি, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন।

এছাড়া যাত্রীরা পরিবহন সেবার মান নিয়ে মতামত ও রেটিং দিতে পারবেন। যাত্রীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে চালকদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এতে দক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ চালক শনাক্ত করা সহজ হবে এবং যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

অন্যদিকে “অনলাইন বাস টার্মিনাল (OBT)” ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ও যাত্রীবাহী বাসের ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটন মৌসুমে রাঙ্গামাটিতে আসা বাসগুলো শহরে প্রবেশের আগেই ডিজিটাল নিবন্ধন সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি বাস কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল ও মোবাইল বার্তার মাধ্যমে নির্ধারিত পার্কিং সংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে।

জেলা পুলিশের দাবি, ইতোমধ্যে ডিজিটাল পার্কিং ব্যবস্থাপনা চালুর ফলে শহরে যত্রতত্র বাস পার্কিং কমেছে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ মনে করছে, এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বাড়াবে, যাত্রী হয়রানি কমাবে এবং রাঙ্গামাটিকে আরও নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব জেলায় পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া