বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নাটোরে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের তত্ত্ববধায়নে ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
নাটোরে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের তত্ত্ববধায়নে ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
‎বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া পূর্ণ বনলতা সেন উপাখ্যান ধন্য ঐতিহ্যের ধারক গ্রাহক উত্তরা গণভবন কাঁচাগোল্লা খ্যাত জীবনানন্দ দাশের গল্প কাহিনীর  উৎসর্গকারী বনলতা সেনের নাটোরে  এক সময় উপজেলার বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক ছিল চলাচলের অযোগ্য। জোড়াতালি দিয়ে টিকে থাকা রাস্তাগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। ভোগান্তিতে পড়তেন সাধারণ মানুষ। তবে নাটোর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। জানা যায়, নাটোরের সাতটি উপজেলার প্রায় ৫২কিঃ মিঃ সড়ক নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় ৪০ কিঃ মিঃ সড়কের উন্নয়ন কাজও শেষ হয়েছে।
দীর্ঘদিন অবহেলিত এসব সড়ক সংস্কার হওয়ায় এলাকার মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরেছে রাজশাহী, নাটোর ও চাপাইনবাবগঞ্জ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি ও পণ্য পরিবহনের জন্য এসব সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংস্কারের ফলে কৃষক ও ব্যবসায়িদের ভোগান্তি কমেছে। প্রকল্পের অধীনে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৬০ কিঃ মিঃ সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। এসব সড়ক উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে। রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ৩০ কিঃ মিঃ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৫-২৬ নাটোরে এলজিইডি প্রকল্পে (LGED) এর সাফमा দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন এই সড়ক এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। শুধু সড়কই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোতেও চলছে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন।
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১৮ টি ভবন ও ১২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্পে ব্যয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৮৭ কোটি টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ি সোহেল আহমেদ বলেন, আগে এসব সড়কে চলাচল করতে খুব কষ্ট হতো। ভাঙ্গাচোরা আর ধুলোর যন্ত্রনায় চলাচলই দায় হয়ে পড়েছিল। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় বাজারে মালামাল আনা-নেয়া অনেক সহজ হয়েছে। এতে আমাদের সময় ও খরচ দুটোই কমেছে। স্থানীয় বাসিন্দা জনাব মকবুল হোসেন বলেন, স্কুলে বাচ্চাদের নিতে যেতে খুব কষ্ট হতো। বৃষ্টি হলেই কাদায় চলা যেত না। এখন নতুন রাস্তা হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি কমেছে। এ ব্যাপারে নাটোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো, ইকবাল হোসেন বলেন, জেলায় গুণগত, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি প্রকল্প নিয়মিত তদারকি করে দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। কাজগুলো শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া