বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হাকিমপুরে পালিত হলো ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৭ এম
হাকিমপুরে পালিত হলো ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করা হলো এ মহান দিনগুলো।
২৫ মার্চের কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থানে সুরা ফাতিহা পাঠ করা হয় এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজন করা হয়।


২৬ মার্চ ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১৯ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে হাকিমপুর সরকারি কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন ও অভিবাদন গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল ও এতিমখানায় উপহার বিতরণ করা হয়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব, অশোক বিক্রম চাকমা’র  সভাপতিত্বে গঠিত উদযাপন কমিটি এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ হাফিজুল ইসলাম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারি, হিলি এলাকার নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া ডলিসহ অন্যান্য উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সমাজকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় দিবসের এ কর্মসূচি হাকিমপুরের সর্বস্তরের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করেছে এবং দেশপ্রেমের আত্মার দীপ্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া