বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সীমান্ত হত্যা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: প্রয়োজনে লং মার্চের ঘোষণা এনসিপির

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
সীমান্ত হত্যা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: প্রয়োজনে লং মার্চের ঘোষণা এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, সরকার সীমান্তে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্ত এলাকায় গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মোরছালিন (২২) ও কৃষক নবীর হোসেনের (৫০) কবর জিয়ারত করেন তিনি। পরে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সরকার দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও সীমান্ত এলাকাতেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যদি সত্যিকার অর্থে জাতীয়তাবাদী সরকার হয়ে থাকেন, তাহলে সীমান্ত রক্ষা করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।”

তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে একের পর এক বাংলাদেশি নিহত হলেও কার্যকর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

গত ৮ মে দিবাগত রাতে ধজনগর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হন স্থানীয় কলেজছাত্র মোরছালিন ও কৃষক নবীর হোসেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, “আমরা যদি ভবিষ্যতে সরকার গঠন করি, তাহলে সীমান্তবর্তী পুরো এলাকাজুড়ে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা যায় এবং দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।”

সীমান্ত হত্যা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি সীমান্ত হত্যা আরও বাড়তে থাকে এবং সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত অভিমুখে লং মার্চ করা হবে ইনশাল্লাহ। তবে আমরা চাই সরকার আগে থেকেই উদ্যোগ নিয়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

এ সময় এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া