বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহ আলীর মাজারে হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় : টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম
শাহ আলীর মাজারে হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় : টিআইবি

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা এবং অভীষ্টের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছে সংস্থাটি।

শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় টিআইবি।

বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শাহ আলীর মাজারে হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি দেশের লোকজ ঐতিহ্য, বহুমত, বহুধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে চলমান সহিংস ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা।

তিনি বলেন, ‘এই নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত হামলা আবহমান বাঙালির উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিকশিত করার সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টার অংশ। এটি মুক্তচিন্তা ও সহিষ্ণুতার জন্য অশনিসংকেত।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার ধারক শক্তি হিসেবে বর্তমান বিএনপি সরকারের দায়িত্ব হলো দেশের বহুসংস্কৃতি, বহুধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা। একই সঙ্গে দেশের আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থানবিরোধী অপতৎপরতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তিনি শাহ আলীর মাজারে হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অতীতে বাউল, সাধক ও মাজারে হামলার ঘটনাগুলোরও তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আগের ঘটনাগুলোতে ন্যায়বিচারের কার্যকর দৃষ্টান্ত তৈরি হলে শাহ আলীর মাজারে হামলার মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।’

বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, অভিযোগ শুধু অস্বীকার করাই যথেষ্ট নয়; বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জুলাই আন্দোলনের চেতনা এবং দেশের চিরায়ত সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সহাবস্থানের বিষয়ে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

টিআইবি আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশের সংবিধান সব জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাসের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্ম চর্চার অধিকার স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, বরং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এবং সংসদের বাইরের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনেরও দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া