বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও আপাতত শঙ্কার কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এম
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও আপাতত শঙ্কার কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও বাংলাদেশে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো সংকট দেখা দেবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বাজারে পণ্যমূল্যেও কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও বাংলাদেশ তা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, প্রণালিটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের অবস্থা তৈরি হয়নি।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা আরো কয়েকদিন দেখা হবে। দুই-চার দিনের মধ্যে সংঘাতের সমাধান হলে কোনো ঝুঁকি থাকবে না।

বৈঠক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কিছুটা স্থবির থাকলেও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ ধরনের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে। ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে, যার মধ্যে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি এবং ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি। এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো এগিয়ে নিতে আমরা ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে কয়েকটি বর্ডার হাট ও স্থলবন্দর বন্ধ থাকলেও বাণিজ্য সম্প্রসারণের স্বার্থে সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ভারতীয় অর্থায়নে চলমান বা প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার বিষয়টি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না।

রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মা জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সম্পর্ক আরো জোরদার করতে কাজ করবে তার দেশ। পাশাপাশি ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও বাংলাদেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া