বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদে ট্রেনের ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বহাল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৩ এম
ঈদে ট্রেনের ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বহাল

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আসনবিহীন (স্ট্যান্ডিং) টিকিট বিক্রি বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আসনবিহীন টিকিটধারী যাত্রীরা যাতে এসি কিংবা প্রথম শ্রেণির কামরায় ভ্রমণের সুযোগ না পান- তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এবার ঈদে ট্রেনে টিকিটবিহীন যাত্রী শনাক্তকরণ, টিকিট কালোবাজারিদের প্রতিরোধ এবং ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে রেল ভবনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঈদের সময় ট্রেনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নাশকতা ও টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্য ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণের লক্ষে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

সভায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেমন- টিকিটবিহীন কোনো যাত্রী বিশেষ করে কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যেন প্রবেশ করতে না পারে- এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া, কোনো ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হলে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মের নিরাপদ স্থানে বসার জন্য নির্ধারিত আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া