বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মোটরসাইকেল রাখলেই বছরে বাড়তি কর? প্রস্তাবিত বাজেট ঘিরে উদ্বেগ মধ্যবিত্তের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
মোটরসাইকেল রাখলেই বছরে বাড়তি কর? প্রস্তাবিত বাজেট ঘিরে উদ্বেগ মধ্যবিত্তের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকার বলছে, এটি রাজস্ব বাড়ানোর অংশ এবং বিদ্যমান কর কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বড় অংশের আশঙ্কা—মোটরসাইকেল রাখতে হলে এখন বছরে একাধিকবার সরকারকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে।

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখের কাছাকাছি। এর অধিকাংশই ১০০ থেকে ১৫০ সিসির বাইক, যা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ব্যবহার করেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১১ সিসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মোটরসাইকেলের ওপর বছরে দুই হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে।

সরকারের যুক্তি হচ্ছে, ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রিম আয়কর চালু রয়েছে। তাই মোটরসাইকেলকেও কর কাঠামোর আওতায় আনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে কর-জাল সম্প্রসারণ হবে এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলছেন অনেক ব্যবহারকারী। তাদের মতে, দেশে মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসবহুল যান নয়; বরং জীবিকা ও দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। একজন চাকরিজীবী যানজট এড়াতে, একজন সাংবাদিক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে, একজন ডেলিভারি রাইডার আয় নিশ্চিত করতে কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ব্যবসার প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।

এ কারণে নতুন করের প্রস্তাবকে অনেকেই বাড়তি আর্থিক চাপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সীমিত ও অনিয়মিত আয়ের মানুষের জন্য এটি মাসিক ব্যয়ের ওপর নতুন বোঝা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নীতিগতভাবে সরকার বলছে, ট্যাক্স টোকেন ও অগ্রিম আয়কর দুটি আলাদা বিষয়। ট্যাক্স টোকেন হলো যানবাহন ব্যবহারের ফি, আর অগ্রিম আয়কর পরবর্তীতে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। তাদের দৃষ্টিতে, মোটরসাইকেল রাখতে হলে বছরে একাধিকবার সরকারকে টাকা দিতে হবে—এটাই মূল বাস্তবতা।

এছাড়া ১১০ সিসি পর্যন্ত করমুক্ত রেখে ১১১ সিসি থেকে কর আরোপের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, একই ধরনের আয়ের মানুষ ও একই ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও শুধু ইঞ্জিন ক্ষমতার সামান্য পার্থক্যের কারণে কেউ করের বাইরে আর কেউ করের ভেতরে চলে যাচ্ছেন, যা সামাজিকভাবে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, করনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যথায় নতুন করনীতি জনঅসন্তোষ বাড়াতে পারে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া