সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মোটরসাইকেল রাখলেই বছরে বাড়তি কর? প্রস্তাবিত বাজেট ঘিরে উদ্বেগ মধ্যবিত্তের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
মোটরসাইকেল রাখলেই বছরে বাড়তি কর? প্রস্তাবিত বাজেট ঘিরে উদ্বেগ মধ্যবিত্তের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকার বলছে, এটি রাজস্ব বাড়ানোর অংশ এবং বিদ্যমান কর কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বড় অংশের আশঙ্কা—মোটরসাইকেল রাখতে হলে এখন বছরে একাধিকবার সরকারকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে।

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখের কাছাকাছি। এর অধিকাংশই ১০০ থেকে ১৫০ সিসির বাইক, যা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ব্যবহার করেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১১ সিসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মোটরসাইকেলের ওপর বছরে দুই হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে।

সরকারের যুক্তি হচ্ছে, ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রিম আয়কর চালু রয়েছে। তাই মোটরসাইকেলকেও কর কাঠামোর আওতায় আনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে কর-জাল সম্প্রসারণ হবে এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলছেন অনেক ব্যবহারকারী। তাদের মতে, দেশে মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসবহুল যান নয়; বরং জীবিকা ও দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। একজন চাকরিজীবী যানজট এড়াতে, একজন সাংবাদিক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে, একজন ডেলিভারি রাইডার আয় নিশ্চিত করতে কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ব্যবসার প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।

এ কারণে নতুন করের প্রস্তাবকে অনেকেই বাড়তি আর্থিক চাপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সীমিত ও অনিয়মিত আয়ের মানুষের জন্য এটি মাসিক ব্যয়ের ওপর নতুন বোঝা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নীতিগতভাবে সরকার বলছে, ট্যাক্স টোকেন ও অগ্রিম আয়কর দুটি আলাদা বিষয়। ট্যাক্স টোকেন হলো যানবাহন ব্যবহারের ফি, আর অগ্রিম আয়কর পরবর্তীতে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। তাদের দৃষ্টিতে, মোটরসাইকেল রাখতে হলে বছরে একাধিকবার সরকারকে টাকা দিতে হবে—এটাই মূল বাস্তবতা।

এছাড়া ১১০ সিসি পর্যন্ত করমুক্ত রেখে ১১১ সিসি থেকে কর আরোপের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, একই ধরনের আয়ের মানুষ ও একই ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও শুধু ইঞ্জিন ক্ষমতার সামান্য পার্থক্যের কারণে কেউ করের বাইরে আর কেউ করের ভেতরে চলে যাচ্ছেন, যা সামাজিকভাবে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, করনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যথায় নতুন করনীতি জনঅসন্তোষ বাড়াতে পারে।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।