বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

একদিনের সফরে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ব্যস্ত সূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১০:৪৯ এম
একদিনের সফরে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ব্যস্ত সূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন

                                                     -সংগৃহীত ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

একদিনের সরকারি সফরে সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান (বিএস-৫৩১) সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে তিনি সরাসরি যান হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতে। সেখানে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী সুরমা নদীর তীরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন, বন্যা প্রতিরোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন তিনি, যা স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম-এ ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমি-তে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পুরো সিলেটে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, গত রাত থেকেই সিলেটে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সকাল থেকেও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বাস্তবায়নে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া