বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নবাগত জেলা প্রশাসকের কিশোরগঞ্জে যোগদান, ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০০ পিএম
নবাগত জেলা প্রশাসকের কিশোরগঞ্জে যোগদান, ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

অদ্য মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কিশোরগঞ্জে যোগদান করেন জনাব মিস সোহানা নাসরিন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এই বরণ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

নবাগত জেলা প্রশাসক মিস সোহানা নাসরিন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলাকে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব জেলায় রূপান্তর করতে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কিশোরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে পুলিশ বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। তিনি নবাগত জেলা প্রশাসককে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, নবাগত জেলা প্রশাসকের যোগদানের মাধ্যমে জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া