সাতকানিয়ায় ডাকাত দলের আস্তানা ভেঙে দিল পুলিশ, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩
সাতকানিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের তৎপরতা রুখে দিয়েছে পুলিশ। গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন একটি নির্জন বাগানে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়ভাবে নিরিবিলি ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা হওয়ায় জায়গাটি ডাকাত দলের অস্থায়ী সমাবেশস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের কয়েকজন সদস্য দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কক্সবাজার সদরের মো. রাশেদ (১৮), চট্টগ্রামের রাউজানের মো. আকিব (২০) এবং মো. রবিন (২৫)।
তল্লাশির সময় তাদের কাছ থেকে একটি এলজি (লোকাল গান), একটি একনলা বন্দুক, তিন রাউন্ড কার্তুজ এবং একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, শফি ও ইলিয়াছ নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে তারা ওই বাগানে জড়ো হয়েছিল এবং সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি চালানোর পরিকল্পনা ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাতের বেলা অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশের এই অভিযানে একটি সম্ভাব্য বড় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিহত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধ করা যায়।
পুলিশের এ ধরনের অভিযানে অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।








