বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় ডাকাত দলের আস্তানা ভেঙে দিল পুলিশ, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সাতকানিয়ায় ডাকাত দলের আস্তানা ভেঙে দিল পুলিশ, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

সাতকানিয়া প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের তৎপরতা রুখে দিয়েছে পুলিশ। গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন একটি নির্জন বাগানে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়ভাবে নিরিবিলি ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা হওয়ায় জায়গাটি ডাকাত দলের অস্থায়ী সমাবেশস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের কয়েকজন সদস্য দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কক্সবাজার সদরের মো. রাশেদ (১৮), চট্টগ্রামের রাউজানের মো. আকিব (২০) এবং মো. রবিন (২৫)।

তল্লাশির সময় তাদের কাছ থেকে একটি এলজি (লোকাল গান), একটি একনলা বন্দুক, তিন রাউন্ড কার্তুজ এবং একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, শফি ও ইলিয়াছ নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে তারা ওই বাগানে জড়ো হয়েছিল এবং সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি চালানোর পরিকল্পনা ছিল।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাতের বেলা অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশের এই অভিযানে একটি সম্ভাব্য বড় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিহত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধ করা যায়।

পুলিশের এ ধরনের অভিযানে অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।


‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া