বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিক্ষার ঝুলি, তবুও ভালোবাসা অটুট—ঈদে স্ত্রীর জন্য মেহেদি কিনতে চান দৃষ্টিহীন স্বামী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ভিক্ষার ঝুলি, তবুও ভালোবাসা অটুট—ঈদে স্ত্রীর জন্য মেহেদি কিনতে চান দৃষ্টিহীন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দারিদ্র্য, অন্ধত্ব আর জীবনের কঠিন বাস্তবতা—সবকিছুকে জয় করে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক দম্পতি। ভিক্ষাবৃত্তিই তাদের একমাত্র উপার্জনের পথ, তবুও সংসারে নেই ভালোবাসার ঘাটতি।

দৃষ্টিহীন দ্বীন ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম প্রায় দুই দশক ধরে একসঙ্গে পথ চলছেন। জীবনের টানাপোড়েন থাকলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় ভালোবাসা আর পারস্পরিক বিশ্বাসে গড়া।

দ্বীন ইসলাম বলেন, “আমারে দয়া কইরা না, ভালোবাইস্যা বিয়া করছে। ২০ বছর পার হইছে, টুকটাক ঝগড়া ছাড়া আর কিছুই হয় নাই। এখন ভিক্ষা কইর‌্যাই জীবন চলে, তয় ভালোবাসা কমে নাই।”

ঈদকে সামনে রেখে তার ছোট্ট একটি ইচ্ছা—স্ত্রীর জন্য মেহেদি ও চুড়ি কেনা। তিনি বলেন, “ঈদের দিন বাড়ি ফিরার সময় হেরে একটা মেহেদি কিইন্যা দিমু।”

রাশিদা বেগমই তার স্বামীর চোখ। প্রতিদিন তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ভিক্ষা করেন। যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে; মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, এক ছেলে দিনমজুর এবং অন্যজন মাদরাসায় পড়াশোনা করছে।

দ্বীন ইসলাম জানান, শৈশবেই দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় অন্ধত্ব স্থায়ী হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় সংগ্রামী জীবন। কিশোর বয়সে পরিচয়ের পর ভালোবাসা থেকেই রাশিদা তাকে বিয়ে করেন।

রাশিদা বলেন, “একসাথে থাকমু বলেই বিয়া করছি। গরিবের সংসার অনেক সময় টিকে না, কিন্তু উনি আমায় কখনো ফেলে যাবেন না।”

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ভিক্ষা করে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। স্বামীর প্রতিবন্ধী ভাতাও রয়েছে। তবে একটি ফ্যামিলি কার্ড পেলে তাদের জীবন কিছুটা স্বস্তির হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঈদের দিনও থেমে থাকবে না তাদের সংগ্রাম। বরং সেদিনই কিছুটা বেশি আয়ের আশায় বের হবেন তারা। ভালো কিছু খাওয়া আর সন্তানদের জন্য সামান্য উপহারই তাদের ঈদের আনন্দ।

কঠিন বাস্তবতার মাঝেও এই দম্পতির গল্প যেন প্রমাণ করে—ভালোবাসা থাকলে অভাবও হার মানে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া