ভিক্ষার ঝুলি, তবুও ভালোবাসা অটুট—ঈদে স্ত্রীর জন্য মেহেদি কিনতে চান দৃষ্টিহীন স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দারিদ্র্য, অন্ধত্ব আর জীবনের কঠিন বাস্তবতা—সবকিছুকে জয় করে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক দম্পতি। ভিক্ষাবৃত্তিই তাদের একমাত্র উপার্জনের পথ, তবুও সংসারে নেই ভালোবাসার ঘাটতি।
দৃষ্টিহীন দ্বীন ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম প্রায় দুই দশক ধরে একসঙ্গে পথ চলছেন। জীবনের টানাপোড়েন থাকলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় ভালোবাসা আর পারস্পরিক বিশ্বাসে গড়া।
দ্বীন ইসলাম বলেন, “আমারে দয়া কইরা না, ভালোবাইস্যা বিয়া করছে। ২০ বছর পার হইছে, টুকটাক ঝগড়া ছাড়া আর কিছুই হয় নাই। এখন ভিক্ষা কইর্যাই জীবন চলে, তয় ভালোবাসা কমে নাই।”
ঈদকে সামনে রেখে তার ছোট্ট একটি ইচ্ছা—স্ত্রীর জন্য মেহেদি ও চুড়ি কেনা। তিনি বলেন, “ঈদের দিন বাড়ি ফিরার সময় হেরে একটা মেহেদি কিইন্যা দিমু।”
রাশিদা বেগমই তার স্বামীর চোখ। প্রতিদিন তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ভিক্ষা করেন। যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে; মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, এক ছেলে দিনমজুর এবং অন্যজন মাদরাসায় পড়াশোনা করছে।
দ্বীন ইসলাম জানান, শৈশবেই দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় অন্ধত্ব স্থায়ী হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় সংগ্রামী জীবন। কিশোর বয়সে পরিচয়ের পর ভালোবাসা থেকেই রাশিদা তাকে বিয়ে করেন।
রাশিদা বলেন, “একসাথে থাকমু বলেই বিয়া করছি। গরিবের সংসার অনেক সময় টিকে না, কিন্তু উনি আমায় কখনো ফেলে যাবেন না।”
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ভিক্ষা করে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। স্বামীর প্রতিবন্ধী ভাতাও রয়েছে। তবে একটি ফ্যামিলি কার্ড পেলে তাদের জীবন কিছুটা স্বস্তির হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঈদের দিনও থেমে থাকবে না তাদের সংগ্রাম। বরং সেদিনই কিছুটা বেশি আয়ের আশায় বের হবেন তারা। ভালো কিছু খাওয়া আর সন্তানদের জন্য সামান্য উপহারই তাদের ঈদের আনন্দ।
কঠিন বাস্তবতার মাঝেও এই দম্পতির গল্প যেন প্রমাণ করে—ভালোবাসা থাকলে অভাবও হার মানে।








