রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ভিক্ষার ঝুলি, তবুও ভালোবাসা অটুট—ঈদে স্ত্রীর জন্য মেহেদি কিনতে চান দৃষ্টিহীন স্বামী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ভিক্ষার ঝুলি, তবুও ভালোবাসা অটুট—ঈদে স্ত্রীর জন্য মেহেদি কিনতে চান দৃষ্টিহীন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দারিদ্র্য, অন্ধত্ব আর জীবনের কঠিন বাস্তবতা—সবকিছুকে জয় করে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক দম্পতি। ভিক্ষাবৃত্তিই তাদের একমাত্র উপার্জনের পথ, তবুও সংসারে নেই ভালোবাসার ঘাটতি।

দৃষ্টিহীন দ্বীন ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম প্রায় দুই দশক ধরে একসঙ্গে পথ চলছেন। জীবনের টানাপোড়েন থাকলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় ভালোবাসা আর পারস্পরিক বিশ্বাসে গড়া।

দ্বীন ইসলাম বলেন, “আমারে দয়া কইরা না, ভালোবাইস্যা বিয়া করছে। ২০ বছর পার হইছে, টুকটাক ঝগড়া ছাড়া আর কিছুই হয় নাই। এখন ভিক্ষা কইর‌্যাই জীবন চলে, তয় ভালোবাসা কমে নাই।”

ঈদকে সামনে রেখে তার ছোট্ট একটি ইচ্ছা—স্ত্রীর জন্য মেহেদি ও চুড়ি কেনা। তিনি বলেন, “ঈদের দিন বাড়ি ফিরার সময় হেরে একটা মেহেদি কিইন্যা দিমু।”

রাশিদা বেগমই তার স্বামীর চোখ। প্রতিদিন তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ভিক্ষা করেন। যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে চার সদস্যের সংসার। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে; মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, এক ছেলে দিনমজুর এবং অন্যজন মাদরাসায় পড়াশোনা করছে।

দ্বীন ইসলাম জানান, শৈশবেই দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় অন্ধত্ব স্থায়ী হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় সংগ্রামী জীবন। কিশোর বয়সে পরিচয়ের পর ভালোবাসা থেকেই রাশিদা তাকে বিয়ে করেন।

রাশিদা বলেন, “একসাথে থাকমু বলেই বিয়া করছি। গরিবের সংসার অনেক সময় টিকে না, কিন্তু উনি আমায় কখনো ফেলে যাবেন না।”

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ভিক্ষা করে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। স্বামীর প্রতিবন্ধী ভাতাও রয়েছে। তবে একটি ফ্যামিলি কার্ড পেলে তাদের জীবন কিছুটা স্বস্তির হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঈদের দিনও থেমে থাকবে না তাদের সংগ্রাম। বরং সেদিনই কিছুটা বেশি আয়ের আশায় বের হবেন তারা। ভালো কিছু খাওয়া আর সন্তানদের জন্য সামান্য উপহারই তাদের ঈদের আনন্দ।

কঠিন বাস্তবতার মাঝেও এই দম্পতির গল্প যেন প্রমাণ করে—ভালোবাসা থাকলে অভাবও হার মানে।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।