বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সিটি মেয়রের ঈদের শুভেচ্ছা: সম্প্রীতি ও মানবিকতার আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
সিটি মেয়রের ঈদের শুভেচ্ছা: সম্প্রীতি ও মানবিকতার আহ্বান

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বীর চট্টলার নাগরিকবৃন্দ, বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সাংবাদিক সমাজ, মেহনতি পেশাজীবী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র রমজান আমাদের ধৈর্য, সংযম, ত্যাগ ও সহমর্মিতার অনন্য শিক্ষা দেয়। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দ ও প্রশান্তি। ঈদের মূল শিক্ষা হলো—সব ভেদাভেদ ভুলে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। তিনি সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন ও আস্থার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। জনগণের এই আমানত রক্ষা করে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অতীতে যেমন জনগণ পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও একইভাবে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মেয়র বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি প্রিয় শহর চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত আনন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান।

শেষে তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ঈদের পবিত্র আলোয় দূর হোক সব অন্ধকার। ঈদ বয়ে আনুক শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ।

ঈদ মোবারক।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া