বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে কাল ঈদ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৬ এম
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে কাল ঈদ

শামীম আল-মামুন (মতিন) ।। চট্রগ্রামঃ

চট্টগ্রামের অর্ধ–শতাধিক গ্রামের কিছু মানুষ আগামীকাল শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার মির্জারখীল দরবার-এর মুরিদগণ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করছেন।

দরবার সূত্রে জানা গেছে, তাদের অনুসারীরা সৌদি আরবের সময় অনুযায়ী আগেই রোজা শুরু করেছিলেন। সেই হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার তাদের ৩০টি রোজা পূর্ণ হচ্ছে এবং আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় দরবার শরীফ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন দরবারের পীর হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আরেফুল হাইয়ের বড় ছেলে ড. মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জারখীল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক ও দরবারের মুরিদ নুরুল কবির চৌধুরী। তিনি জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা স্থান থেকে মুরিদরা ঈদের নামাজ আদায়ে দরবারে সমবেত হবেন।

দরবারের তথ্যমতে, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের কিছু মানুষ শুক্রবার ঈদ উদযাপন করবেন। এছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এর লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি এবং উপকূলীয় চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালীকুতুবদিয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামেও একইভাবে ঈদ পালিত হবে।

নুরুল কবির চৌধুরী জানান, মির্জারখীল দরবারের অনুসারীরা প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া