ওয়াসার ৩ প্রকৌশলীর দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক
ওয়াসা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের লোগো। কোলাজ ছবি
ঢাকা ওয়াসার তিন প্রকৌশলীর দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
ওয়াসার এই তিন কর্মকর্তা হলেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজ এবং প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ওয়াসা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টের জন্য চুক্তিবদ্ধ চীনা কোম্পানির মানসম্মত ডাকটাইল আয়রন পাইপ না কিনে অন্য অনভিজ্ঞ চীনা কোম্পানি থেকে কম দামের মানহীন ডাকটাইল আয়রন পাইপ কেনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগটির অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম শেখ, সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান, উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “ঢাকা ওয়াসা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টে আমি কখনও ছিলাম না। ওই প্রকল্পে আমি জীবনেও কাজ করিনি। ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজও ওই প্রকল্পে কাজ করেননি। আমি বর্তমানে সায়েদাবাদ প্রজেক্টে আছি।”
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্পের (সায়েদাবাদ ফেজ-৩) প্রকল্প পরিচালক (পিডি)। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।
ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ঢাকা ওয়াসা শাখার সভাপতি ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “আমি ওই প্রকল্পে কখনও ছিলাম না। মাহমুদুল ইসলাম অবসরে গেছেন।”
প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি দেশকাল নিউজ ডটকম।
ওয়াসা ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (DESWSP) এবং অন্যান্য বড় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পগুলোতে ঠিকাদার নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাত, ঘুষ লেনদেন ও অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া পাইপলাইন লিকেজ, অবৈধ সংযোগ এবং মিটার রিডিংয়ে গাফিলতির কারণে বড় ধরনের সিস্টেম লস ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ওয়াসা।








