বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ওয়াসার ৩ প্রকৌশলীর দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ওয়াসার ৩ প্রকৌশলীর দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

ওয়াসা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের লোগো। কোলাজ ছবি

ঢাকা ওয়াসার তিন প্রকৌশলীর দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

ওয়াসার এই তিন কর্মকর্তা হলেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজ এবং প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ওয়াসা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টের জন্য চুক্তিবদ্ধ চীনা কোম্পানির মানসম্মত ডাকটাইল আয়রন পাইপ না কিনে অন্য অনভিজ্ঞ চীনা কোম্পানি থেকে কম দামের মানহীন ডাকটাইল আয়রন পাইপ কেনার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগটির অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম শেখ, সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান, উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান।

অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “ঢাকা ওয়াসা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টে আমি কখনও ছিলাম না। ওই প্রকল্পে আমি জীবনেও কাজ করিনি। ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজও ওই প্রকল্পে কাজ করেননি। আমি বর্তমানে সায়েদাবাদ প্রজেক্টে আছি।”

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্পের (সায়েদাবাদ ফেজ-৩) প্রকল্প পরিচালক (পিডি)। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।

ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ঢাকা ওয়াসা শাখার সভাপতি ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “আমি ওই প্রকল্পে কখনও ছিলাম না। মাহমুদুল ইসলাম অবসরে গেছেন।”

প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি দেশকাল নিউজ ডটকম।

ওয়াসা ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (DESWSP) এবং অন্যান্য বড় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পগুলোতে ঠিকাদার নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাত, ঘুষ লেনদেন ও অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া পাইপলাইন লিকেজ, অবৈধ সংযোগ এবং মিটার রিডিংয়ে গাফিলতির কারণে বড় ধরনের সিস্টেম লস ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ওয়াসা।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া