বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুরে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ, শোভাযাত্রা ও মেলায় উৎসবের আমেজ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৩ পিএম
শেরপুরে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ, শোভাযাত্রা ও মেলায় উৎসবের আমেজ

শেরপুর প্রতিনিধিঃ

বর্ণাঢ্য আয়োজন, লোকজ ঐতিহ্য ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততায় শেরপুরে উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে নানা রঙের ফেস্টুন, মুখোশ, ঘুড়ি, ময়ূর, পাখি ও বাঘের প্রতিকৃতি বহন করেন। এছাড়া গ্রামীণ জীবনের অনুষঙ্গ হিসেবে গরুর গাড়ি ও পালকিও শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। ঢোল-বাদ্য, বাঁশি ও লোকজ সঙ্গীতের তালে তালে অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।

শোভাযাত্রা শেষে ডিসি উদ্যানে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা। জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় গ্রামীণ হস্তশিল্প, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের পণ্য, দেশীয় খেলনা এবং নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল বসেছে। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, পুতুলনাচসহ বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা, পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এছাড়াও শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাঁকন রেজা, কার্যকর সভাপতি রফিক মজিদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। শেরপুর মডেল গার্লস কলেজের আয়োজনে পরিবেশন করা হয় পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি, ভর্তা, মিষ্টান্নসহ বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।

পাশাপাশি জেলার প্রায় শতাধিক গ্রামে হাট-বাজার ও স্কুল মাঠে বসেছে বৈশাখী মেলা। এসব মেলায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপাদান স্থান পেয়েছে। ফলে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বইছে উৎসবের আমেজ।

সব মিলিয়ে শেরপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন পেয়েছে এক মিলনমেলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয়েছে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির উৎসবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া