বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে দিলেন উৎসাহ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য তৈরি করা এক অভিনব ‘স্মার্ট কার’ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, কলেজছাত্র ওয়াকিমুল ইসলামের উদ্ভাবিত সেই ব্যাটারিচালিত গাড়িতে চড়েও দেখেছেন তিনি। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাক্ষাতে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম তার নিজ হাতে তৈরি ছোট আকারের বৈদ্যুতিক বাহনটির নাম দিয়েছেন ‘এ টু আই স্মার্ট কার’। সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীকে গাড়িটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে জানান তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়িটি চালিয়েও দেখান এই তরুণ উদ্ভাবক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়ায় ওয়াকিমুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ দেশের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের চলাচল সহজ করতে দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে ওয়াকিমুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে জানান, একসময় তিনি সারাদিন বাসার ভেতরেই থাকতেন এবং একা বাইরে বের হতে পারতেন না। নিজের চলাচল সহজ করার চিন্তা থেকেই তিনি এই স্মার্ট কার তৈরির কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেটিই বাস্তবে রূপ নেয়।
যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজ–এর বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলাম। তার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও নিজের মেধা ও চেষ্টায় তিনি এই ব্যতিক্রমী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।
ওয়াকিমুল জানান, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে তিনি আরও উন্নতমানের স্মার্ট কার তৈরি করতে চান। তার মতে, এই ধরনের গাড়ি শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নয়, বয়স্কদের চলাচলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি–এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত গাড়িটি একবার চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








