বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে দিলেন উৎসাহ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে দিলেন উৎসাহ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য তৈরি করা এক অভিনব ‘স্মার্ট কার’ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, কলেজছাত্র ওয়াকিমুল ইসলামের উদ্ভাবিত সেই ব্যাটারিচালিত গাড়িতে চড়েও দেখেছেন তিনি। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাক্ষাতে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম তার নিজ হাতে তৈরি ছোট আকারের বৈদ্যুতিক বাহনটির নাম দিয়েছেন ‘এ টু আই স্মার্ট কার’। সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীকে গাড়িটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে জানান তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়িটি চালিয়েও দেখান এই তরুণ উদ্ভাবক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়ায় ওয়াকিমুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ দেশের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের চলাচল সহজ করতে দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে ওয়াকিমুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে জানান, একসময় তিনি সারাদিন বাসার ভেতরেই থাকতেন এবং একা বাইরে বের হতে পারতেন না। নিজের চলাচল সহজ করার চিন্তা থেকেই তিনি এই স্মার্ট কার তৈরির কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেটিই বাস্তবে রূপ নেয়।

যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজ–এর বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলাম। তার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও নিজের মেধা ও চেষ্টায় তিনি এই ব্যতিক্রমী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।

ওয়াকিমুল জানান, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে তিনি আরও উন্নতমানের স্মার্ট কার তৈরি করতে চান। তার মতে, এই ধরনের গাড়ি শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নয়, বয়স্কদের চলাচলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি–এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত গাড়িটি একবার চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া