বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টায় দুই খুন, আতঙ্কে বাসিন্দারা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:০৭ এম
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টায় দুই খুন, আতঙ্কে বাসিন্দারা

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পজুড়ে। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে গুলিতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ কামাল নামে এক ব্যক্তি, যিনি আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি–এআরএ প্রধান নবী হোসেন-এর ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুন হন আরাকান আর্মি অর্গানাইজেশন–এআরও প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম। ক্যাম্পে তার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হালিম বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল। পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন–এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্ট এলাকায় দুর্বৃত্তরা মোহাম্মদ কামালকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাজারের দিকে যাওয়ার সময় রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন–আরএসও’র ১২ থেকে ১৩ সদস্য কামালের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক কামালকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্প এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলে আসছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডগুলো সেই সংঘাতেরই অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টানা হত্যাকাণ্ডে ক্যাম্পে বসবাসরত সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেকে সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া