বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এক বছর পর চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে চালু জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার চালুর অপেক্ষা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:০০ এম
এক বছর পর চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে চালু জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার চালুর অপেক্ষা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রামের সিআরবিস্থ চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল-এ চালু হয়েছে জরুরি বিভাগ। সর্বসাধারণের জন্য হাসপাতালটি উন্মুক্ত হওয়ার প্রায় এক বছর পর এই সেবা চালু হওয়ায় রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এখনো চালু হয়নি অপারেশন থিয়েটার এবং পূর্ণাঙ্গ ইনডোর সেবা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আউটডোর সার্ভিস ও জরুরি বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি কেবিনে রোগী ভর্তি ব্যবস্থাও সীমিত আকারে চালু হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তুহিন বিনতে হালিম বলেন, “জরুরি বিভাগ চালু হওয়ায় রোগীরা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো সেবা পাচ্ছেন। তবে অপারেশন থিয়েটার এখনো চালু হয়নি। সেটি চালু করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও জনবল দরকার।”

গত বছরের মে মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়ার পর হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আউটডোরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে হাসপাতালটিতে অর্থোপেডিক, গাইনি ও অবস, মেডিসিন, চর্ম ও যৌনরোগ, কার্ডিওলজি, ইএনটি, ডেন্টাল এবং সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ, ইক্যুইপমেন্ট ও ওষুধের ব্যবস্থা জরুরি। এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য সরকারি ওষুধ ও খাবারের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে শুধুমাত্র রেলওয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রেলওয়ের মাধ্যমে ওষুধ সুবিধা পাচ্ছেন। তবে সাধারণ রোগীদের জন্যও সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপারেশন থিয়েটার চালু হলে হাসপাতালটির সেবার পরিধি আরও বাড়বে এবং চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া