বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাওরের কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ফজলুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
হাওরের কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ফজলুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আগাম বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান-কে সচিবালয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকদের পুনর্বাসন, খাদ্য সহায়তা ও জরুরি করণীয় নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক মোল্লা।

সূত্র জানায়, বিকেল ৪টার দিকে সচিবালয়ে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে হাওরাঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা, অতিবৃষ্টি এবং কৃষকদের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির বিষয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, খাদ্য সহায়তা ও কৃষিঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, বন্যার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তাকে হাওরাঞ্চলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা তিনি একটি সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এবারের বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে স্মরণকালের অন্যতম বড় ক্ষতি হয়েছে। শুধু আগাম বন্যাই নয়, টানা বৃষ্টির কারণেও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উজান ও ভাটির পার্থক্য ছাড়াই প্রায় সব এলাকাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, তার নির্বাচনি এলাকার ২৪টি ইউনিয়নই সমানভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে তিনি ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে কৃষকদের দুর্ভোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠককে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বৈঠকের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত কার্যকর সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া