বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

কবিরাজের কথায় শিশুকে চোর সন্দেহ, পরিবারকে ইউপিতে তলব—ইউএনওর হস্তক্ষেপে অভিযোগ খারিজ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
কবিরাজের কথায় শিশুকে চোর সন্দেহ, পরিবারকে ইউপিতে তলব—ইউএনওর হস্তক্ষেপে অভিযোগ খারিজ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বর্ণালংকার হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শিশুকে চোর সন্দেহে তার পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হতে নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অভিযোগটি খারিজ করা হয়েছে।

ঘटनাটি ঘটেছে উল্লাপাড়া উপজেলা-এর লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসের শুরুতে লাহিড়ী মোহনপুর বাজারের পল্লিচিকিৎসক দুলাল হোসেনের স্ত্রী একটি সোনার চেইন হারিয়ে ফেলেন। কোথায় হারিয়েছে তা নিশ্চিত না হয়ে তারা পাশের গ্রামের এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন।

অভিযোগ রয়েছে, চর বড়ধন গ্রামের কবিরাজ আসলাম হোসেন কাগজে লেখা নামের তালিকা থেকে এক কাঠমিস্ত্রির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০ বছর বয়সী শিশুর নাম চিহ্নিত করে তাকে অভিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই শিশুটির পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে।

এদিকে লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ গ্রাম আদালতের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবাকে পরিষদে হাজির হতে নোটিশ দেন। তবে শিশুটির পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না এবং নোটিশেও সাড়া দেয়নি। পরিবারের দাবি, এতে তাদের সন্তান মানসিকভাবে ভীত হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, কবিরাজের কথার ভিত্তিতে এমন নোটিশ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। পরে তিনি গ্রাম আদালতের নথি থেকে অভিযোগটি খারিজ করার নির্দেশ দেন।

এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া এমন অভিযোগ তুলে শিশুকে অভিযুক্ত করা এবং পরিবারকে হয়রানি করা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া