কবিরাজের কথায় শিশুকে চোর সন্দেহ, পরিবারকে ইউপিতে তলব—ইউএনওর হস্তক্ষেপে অভিযোগ খারিজ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বর্ণালংকার হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শিশুকে চোর সন্দেহে তার পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হতে নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অভিযোগটি খারিজ করা হয়েছে।
ঘटनাটি ঘটেছে উল্লাপাড়া উপজেলা-এর লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসের শুরুতে লাহিড়ী মোহনপুর বাজারের পল্লিচিকিৎসক দুলাল হোসেনের স্ত্রী একটি সোনার চেইন হারিয়ে ফেলেন। কোথায় হারিয়েছে তা নিশ্চিত না হয়ে তারা পাশের গ্রামের এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ রয়েছে, চর বড়ধন গ্রামের কবিরাজ আসলাম হোসেন কাগজে লেখা নামের তালিকা থেকে এক কাঠমিস্ত্রির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০ বছর বয়সী শিশুর নাম চিহ্নিত করে তাকে অভিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই শিশুটির পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
এদিকে লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ গ্রাম আদালতের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবাকে পরিষদে হাজির হতে নোটিশ দেন। তবে শিশুটির পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না এবং নোটিশেও সাড়া দেয়নি। পরিবারের দাবি, এতে তাদের সন্তান মানসিকভাবে ভীত হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, কবিরাজের কথার ভিত্তিতে এমন নোটিশ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। পরে তিনি গ্রাম আদালতের নথি থেকে অভিযোগটি খারিজ করার নির্দেশ দেন।
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া এমন অভিযোগ তুলে শিশুকে অভিযুক্ত করা এবং পরিবারকে হয়রানি করা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।








