বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌতুকের চাপ, নির্যাতন—হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে গয়না নিয়ে স্বামীর পলায়ন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
যৌতুকের চাপ, নির্যাতন—হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে গয়না নিয়ে স্বামীর পলায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহীতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে গয়না খুলে পালিয়েছেন স্বামী। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কীটনাশক পান করা তরুণী হাসিনা খাতুন (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই তাঁর স্বামী মো. রাতুল শরীর থেকে স্বর্ণালঙ্কার খুলে নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলা-এর রাজাবাড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাতুলের সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে বিয়ে হয় সাপাহার উপজেলা-এর আন্দারদিঘি গ্রামের হাসিনা খাতুনের। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা আনার জন্য হাসিনার ওপর নির্যাতন চালাতেন রাতুল।

স্বজনদের দাবি, হাসিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামীর নির্যাতন ও চাপ সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার দিবাগত রাতে তিনি কীটনাশক পান করেন। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসিনার খালাতো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, রাতুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং যৌতুকের টাকায় ফেনসিডিল ব্যবসা করার পরিকল্পনা ছিল। টাকা না পেয়ে প্রায়ই হাসিনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, হাসিনার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বোন মেহেরুন্নেসা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর থেকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে হাসিনার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই ঘটনা আবারও যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া