বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাঙামাটিতে ছাত্রদলের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
রাঙামাটিতে ছাত্রদলের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ

রাঙামাটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লাঠিচার্জ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পরে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

জানা যায়, গত শনিবার রাতে ছাত্রদলের ২৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলে এর বিরোধিতা করে সংগঠনের একাংশ। রোববার জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে তারা।

পরদিন দুপুরে নতুন কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মো. ইউসুফ নামে পৌর যুবদলের এক সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন পৌরসভা এলাকা, কাঠালতলী ও বনরূপা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এ আদেশে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার পর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির সভাপতি মো. অলি আহাদ বলেন, আংশিক কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মূল্যায়ন করা হবে এবং সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার চেষ্টা করা হবে।

রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন জানান, ১৪৪ ধারা জারির ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া