বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোনায় বৃষ্টিভেজা সড়কে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১০:৫৬ এম
নেত্রকোনায় বৃষ্টিভেজা সড়কে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড় ইলাশপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যেই দুর্গাপুর থেকে ময়মনসিংহগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে শ্যামগঞ্জ থেকে দুর্গাপুরগামী একটি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই সিএনজির যাত্রী কালের ডহর গ্রামের মৃত কাসম আলীর ছেলে আইনুল হক (৫০) নিহত হন। পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে সেখানে অজ্ঞাতনামা আরও একজন যাত্রী মারা যান।

এ ঘটনায় আরও একজন আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জানান যে দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অজ্ঞাত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও সিএনজি জব্দ করা হয়েছে, তবে বাসের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে যান চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় চালকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া