বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

লালপুরে লিজের মেয়াদ শেষে জমি দখলের অভিযোগ, আদিবাসী পরিবারে আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
লালপুরে লিজের মেয়াদ শেষে জমি দখলের অভিযোগ, আদিবাসী পরিবারে আতঙ্ক
ইউসুফ হোসাইন লালপুর নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে আদিবাসী  খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জমি লিজ নিয়ে যথা সময়সীমা অতিক্রম  করার পর নিজ সম্পত্তি বলে অবৈধ ভাবে জমি দখল করে রোপিত সম্পত্তিতে বড় বড় আম গাছ সহ একাধিক ফলক ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে লালপুর থানা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। ‎এঘটনা মুসলমান কর্তৃক আদিবাসী খুদ্র নৃগোষ্ঠীর গোত্রের জমি অবৈধ পন্থায় জোর পূর্বক দখলের চেষ্টাই এলাকায় বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানাগেছে  অবশেষে বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী নিপেন বিশ্বাস (৪৮), গত ২০ এপ্রিল ২০২৬  অফিসার ইনচার্জ লালপুর থানা,শরণাপন্ন হয়েছেন।
অভিযোগে বিপেন বিশ্বাস কান্না জড়িত কন্ঠে উল্লেখ করেন  আমি নিপেন বিশ্বাস নিম্ন উল্লিখিত তফশীল ভুক্ত জমিটি আমি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগদখল করিয়া আসিতেছি। বিবাদীগণ আমাদের নিকট হইতে জমি লিজ নিয়া সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পর হইতে বিবাদীগণ উক্ত জমিটি জোর পূর্বক দখল করিয়া রাখিয়াছে। আমি বিবাদীদের নিকট হইতে আমার উক্ত জমিটি ফেরত চাইলে বিবাদীগণ বিভিন্ন ধরণের তালবাহানা করিয়া আসিতেছে।
বিষয়টি নিয়া এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় আপোষ-মিমাংসার চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ হই। ইং ১৯/০৪/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.০০ টার সময় বিবাদীগণ আমাদের বাড়ীতে আসিয়া আমার বসতবাড়ীর সামনে থাকা গাছ কাটিয়া এবং বাড়ীর রান্নাঘর ভাংচুর করিয়া আমাদের আনুমানিক ৩০,০০০/- টাকার ক্ষতি সাধন করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বিবাদীদের মানা-নিষেধ করিলে বিবাদীগণ ১। মোঃ সলেমান হোসেন (৫০), ২ ২। মোঃ ফজলুর রহমান (৪৫), ৩। মোঃ কোমর উদ্দিন (৪০), ৪। মোঃ আমির উদ্দিন (৩৫), সর্ব পিতা: মৃত ইজ্জত আলী, tবিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদর্শন করে আজকে এতে প্রানের সংশয় সহ সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তাদের নজরে নিয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী  পরিবার।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া