বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

টেকনাফে অপহরণের পর তিনজনকে গলা কেটে হত্যা, পাহাড়ের পাদদেশে মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
টেকনাফে অপহরণের পর তিনজনকে গলা কেটে হত্যা, পাহাড়ের পাদদেশে মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজার,প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণের পর তিন ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে শীলখালী এলাকার বাসিন্দা রবি আলমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বাকি দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্থানীয় লোকজন পাহাড়সংলগ্ন নির্জন এলাকায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাতে অথবা ভোরের দিকে দুর্বৃত্তরা তাদের অপহরণ করে পাহাড়ের পাদদেশে এনে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছি। কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, পূর্ব শত্রুতা বা অপহরণ-সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া