বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবাধিকার ইস্যুতে ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউ চুক্তি স্থগিত চায় তিন দেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম
মানবাধিকার ইস্যুতে ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউ চুক্তি স্থগিত চায় তিন দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অংশীদারিত্ব চুক্তি স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে জোটটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া। গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে চলমান পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ইইউ আর ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকতে পারে না বলে মনে করছে দেশ তিনটি।

মঙ্গলবার লুক্সেমবার্গে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেজ জানান, তিন দেশ যৌথভাবে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

আলবারেজ বলেন, “স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া একসঙ্গে ইইউ-ইসরায়েল অংশীদারিত্ব চুক্তি স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের জন্য অনুরোধ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও জাতিসংঘের অবস্থানকে সমুন্নত রাখা প্রত্যেক ইউরোপীয় দেশের দায়িত্ব। এর ব্যত্যয় হলে তা ইইউর জন্য একটি বড় পরাজয় হবে।”

গত সপ্তাহে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তিন দেশের সরকার অভিযোগ করে, ইসরায়েল এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ইইউ-ইসরায়েল অংশীদারিত্ব চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করে।

চিঠিতে বলা হয়, চুক্তিটির মাধ্যমে ইইউ ও ইসরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই চুক্তির মৌলিক নীতিমালাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

দেশ তিনটি আরও জানায়, ইসরায়েলকে এসব পদক্ষেপ থেকে সরে আসার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন ইইউর সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনার দাবি রাখে।

তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের একটি প্রস্তাবিত আইনের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রাখা হয়েছে। তারা এ ধরনের পদক্ষেপকে মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নিপীড়ন, দমন-পীড়ন, সহিংসতা ও বৈষম্যের ধারাবাহিকতার অংশ।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ভিন্নমত দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে ইইউর অভ্যন্তরে এ বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ও চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া