বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা দুপুরের পর সহিংস রূপ নেয় এবং বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।

জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে জুলাই-আগস্ট মাসে আঁকা একটি গ্রাফিতির নিচে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার জায়গায় ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার সকালে এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে অন্তত এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই শিক্ষার্থীর পায়ের গোড়ালি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয়। আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ ও কলেজের শিক্ষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শুরুতে শিক্ষকরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুপুরের পর ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।”

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া