বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে শেরপুরে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে শেরপুরে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

শেরপুর প্রতিনিধি:

‘আবর্জনা থাকবে চোখের আড়াল, দেখবো সবাই পরিষ্কার শহর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্ন শেরপুর গড়ার লক্ষ্যে শহরের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে শেরপুর পৌরসভা।

মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শরিফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা।

সভায় শহরের সার্বিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ এবং বাজার ও সড়ক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে দোকান মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে পৌরসভার একার পক্ষে সম্ভব নয়; এ জন্য ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং জোরদার, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। তারা পৌরসভার চলমান কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাসও প্রদান করেন।

এ সময় শেরপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি, পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শহরের ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লুৎফর রহমান বাদল, মাশুকুর রহমান, রেজাউর রহমান, আহমদ আলী, হান্নান মিয়াসহ আরও অনেকে।

সভা শেষে পরিচ্ছন্ন শেরপুর গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এবং এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া