বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা: লেবাননের ৩৯ গ্রামে ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ হিজবুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১১ পিএম
যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা: লেবাননের ৩৯ গ্রামে ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ হিজবুল্লাহ

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা থামছে না। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৩৯টি গ্রামে হামলা চালিয়েছে।

সোমবার হিজবুল্লাহর মিত্র এবং লেবাননের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আলি হাসান খলিল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণে বহু বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে।

খলিল আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে পরিচালিত অভিযানগুলো মূলত হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও অবস্থান লক্ষ্য করে করা হচ্ছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ করে আসছে। এতে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। অব্যাহত উত্তেজনার কারণে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহল এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া