বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

রোববার সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল আলীম

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি সুনির্দিষ্ট তথ্যভান্ডার তৈরি হবে এবং অপসাংবাদিকতা বা ভুয়া পরিচয়ে কাজ করার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার রোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের এআই প্রশিক্ষণ, ন্যারেটিভ তৈরি, তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং) এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে সুসম্পর্ক জোরদার এবং ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভুয়া খবর প্রতিরোধে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে তথ্য অধিদফতর থেকে গুজব প্রতিরোধে বিভিন্ন ফটোকার্ড ও তথ্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রেস কাউন্সিল আইনের আওতায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ রয়েছে এবং বর্তমানে কয়েকটি অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ আলি-এর অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর মাধ্যমে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১,১১০ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০২ জন সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি এবং রমজানে সাংবাদিক পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া