বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জীবননগরে ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৩ পিএম
জীবননগরে ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত ববিতা খাতুন (২৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ববিতা খাতুন উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের সরোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী ও স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ববিতা খাতুন প্রতিদিনের মতো তার বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা প্রথমে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, তবে এখনো হামলার পেছনের কারণ বা জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া