বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আ. লীগের দোসর নই, আমি বিএনপির মেয়র—স্পষ্ট করলেন মনজুর আলম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০২ এম
আ. লীগের দোসর নই, আমি বিএনপির মেয়র—স্পষ্ট করলেন মনজুর আলম

শামীম আল-মামুন(মতিন)।চট্রগ্রামঃ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম বলেছেন, তাকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার নামে তো কোনো মামলাও নেই। আমি আওয়ামী লীগ করি না। আমি আওয়ামী লীগের দোসর কোথা থেকে হলাম? আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম।”

তিনি জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ তার চট্টগ্রামের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। সেদিন দুপুরে ফোন করে তিনি বাসায় আসার কথা জানালে তাকে খাবারের আমন্ত্রণ জানান মনজুর আলম। বিকেলে তিনি বাসায় এসে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং পরে চলে যান।

এ সময় বাইরে কিছু যুবক জড়ো হলে হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই তাদের সঙ্গে কথা বলেন বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই মেয়র।

মনজুর আলম দাবি করেন, যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আশপাশ এলাকার বাসিন্দা।

নিজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং বর্তমানে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন।

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মানুষ নানা কথা বলছে, তবে আমি নিজে কাউকে বলিনি যে নির্বাচন করবো।”

এদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে মনজুর আলম পুরো বিষয়টিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ উল্লেখ করে বলেন, “রাজনৈতিক কোনো বিষয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়নি—এটি ছিল শুধুই ভদ্রতা সাক্ষাৎ।”

উল্লেখ্য, এম মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া