বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হোসেনপুরে নিজস্ব ভবন নির্মাণে বাধা ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম
হোসেনপুরে নিজস্ব ভবন নির্মাণে বাধা ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মো: এনামুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জঃ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিজের ভবন নির্মাণ ও প্লাস্টারের কাজে প্রতিবেশীদের বাধা প্রদান, নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মুহাম্মদ রুহুল আমিন।
আজ (১৩ এপ্রিল ২০২৬) হোসেনপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ঢেকিয়া এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মুহাম্মদ রুহুল আমিন (৫০)।

ভুক্তভোগী জানান, হোসেনপুর থানাধীন ঢেকিয়া এলাকার হনুমান তলা খাজা স্টুডিওর সামনে পশ্চিম পাশে তিনি নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে তিন তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজের এক পর্যায়ে প্রতিবেশীর টিনের চালায় সামান্য বালু পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তিনি তা নতুন টিন দিয়ে মেরামত করে দেবেন।
তিনি আরও জানান, সালিশি সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ একমত হলেও পরবর্তীতে কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী মোঃ আশরাফুল আলম (৪০) ও তার পুত্র মোঃ অনিক মিয়া নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করতে থাকেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ০১/০২/২০২৫ তারিখ থেকে বিবাদীপক্ষ ধারাবাহিকভাবে প্লাস্টারের কাজে বাধা দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় ১,২০,০০০ (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকার নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ভবনটি বর্তমানে প্লাস্টারবিহীন থাকায় বৃষ্টির পানি দেয়াল বেয়ে বৈদ্যুতিক লাইনে প্রবেশ করছে, এতে যেকোনো সময় শর্ট সার্কিট হয়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, গত ২৫/০৩/২০২৬ তারিখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালে বিবাদীপক্ষ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কাজ করলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, স্থানীয় মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন,
“আমি আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে বৈধভাবে ভবন নির্মাণ করছি। কিন্তু বিবাদীপক্ষের অযৌক্তিক বাধা ও হুমকির কারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আমাকে ভবনের প্লাস্টার কাজ সম্পন্ন করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।”

এ সময় স্থানীয় সাক্ষী মোঃ সোহাগ মিয়া, আবু সাহিদ মেম্বার, মোঃ শওকত আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া