বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাঙ্গামাটিতে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার: সীমান্তে সক্রিয় চক্রের ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
রাঙ্গামাটিতে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার: সীমান্তে সক্রিয় চক্রের ইঙ্গিত

বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার • জোরদার করা হচ্ছে নজরদারি • আতঙ্কে স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে Border Guard Bangladesh (বিজিবি)। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মারিশ্যা ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল উপজেলার একটি দুর্গম সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে একটি ৭.৬৫ বোর ব্রাউনিং পিস্তল, কয়েক রাউন্ড তাজা গুলি, খালি খোসা, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক এবং একটি চাইনিজ চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যরা।

“সীমান্তে অস্ত্র পাচারের নতুন প্রবণতা”

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি সীমান্তকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বাঘাইছড়ি দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঝে মধ্যেই রাতে অচেনা লোকজনের চলাচল দেখা যায়, যা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা

এ বিষয়ে বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এক কর্মকর্তা বলেন,
“সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না। চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র প্রতিরোধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।”

নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান নয়—সীমান্ত এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। তা না হলে অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া