বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৮ হাজার টন ডিজেল, পার্বতীপুরে পৌঁছেছে চালান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৮ হাজার টন ডিজেল, পার্বতীপুরে পৌঁছেছে চালান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। আমদানি করা এই জ্বালানি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে সফলভাবে পৌঁছেছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, গত ৭ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়। নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিবহন শেষে শুক্রবার মধ্যরাতে পুরো ৮ হাজার মেট্রিক টনের চালান পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমদানি করা এই ডিজেল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে নিয়মিতভাবে ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

সবকিছু পরিকল্পনামাফিক থাকলে আগামী ১৭ এপ্রিল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য পাম্পিং শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে।

এর আগে ১১ ও ২৩ মার্চ দুই দফায় ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং ১ এপ্রিল আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল একই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আসে। সর্বশেষ চালানসহ এখন পর্যন্ত মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে আসামের নুমালিগড়ে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে Bangladesh–India Friendship Pipeline এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করছে বাংলাদেশ।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া