বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আবাসিক ভবনে বিপুল ভোজ্যতেল মজুত: আলম এন্টারপ্রাইজকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম
আবাসিক ভবনে বিপুল ভোজ্যতেল মজুত: আলম এন্টারপ্রাইজকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

হাটহাজারী প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আবাসিক ভবনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুত ও অনিয়মের অভিযোগে আলম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌরসভার আলীপুর পুরাতন থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান। এতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে সহযোগিতা করে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবাসিক ভবনের ভেতরে আলম এন্টারপ্রাইজের একটি গুদামে প্রায় ৩০ হাজার লিটার ভোজ্যতেল মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় দেখা যায়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদভাবে তেল সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রদর্শনে ব্যর্থতা, পুরাতন স্টক শেষ হওয়ার আগেই নতুন চালান এনে অতিরিক্ত মজুদ, এবং কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান মালিক মো. মিজানুর রহমানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল ক্যাশ রেজিস্ট্রারের (ডিসিআর) মাধ্যমে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করা হয়।

পরে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয়ের আগে নতুন করে অতিরিক্ত মজুদ না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমান জানান, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া