বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে শিশুপুত্রকে দেয়ালে আছড়ে হত্যা, বাবা-দাদী গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১২ এম
স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে শিশুপুত্রকে দেয়ালে আছড়ে হত্যা, বাবা-দাদী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নগরীর বাকলিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই বছরের শিশুপুত্রকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ঘরের দেয়ালে আছড়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড পিতার বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় শিশুটির বাবা ও দাদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নগরের দক্ষিণ বাকলিয়ার বৌ বাজার এলাকায়। নিহত শিশুর নাম আশরাফ বিন সামির (২)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তার বাবা মো. সজীব (২২) এবং দাদী নূর নাহার বেগম (৪০)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ঘটনার দিন রাতে শিশুটির মা শারমিন আক্তার কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্বামী সজীব স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন।

এ সময় দুই বছরের শিশু আশরাফ মায়ের কাছে গেলে অভিযুক্ত সজীব তাকে জোরপূর্বক মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে ঘরের দেয়ালে আছড়ে মারলে সে গুরুতর আহত হয় এবং কিছুক্ষণ পর খিঁচুনি শুরু হয়।

শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য মা শারমিন অনুরোধ জানালে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেয় এবং উল্টো মারধর করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে শিশুটির মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত বলে চালিয়ে দিতে গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পরদিন জ্ঞান ফেরার পর শারমিন আক্তার স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে বৌ বাজার এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সজীব ও তার মা নূর নাহার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া