বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

পতেঙ্গার বহিঃনোঙরে ভোরের অভিযানে চোরাচালান চক্রের ধরপাকড়: ৫৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ, আটক ৪

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
পতেঙ্গার বহিঃনোঙরে ভোরের অভিযানে চোরাচালান চক্রের ধরপাকড়: ৫৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ, আটক ৪

মুজিবুর রহমান চৌধুরী,চট্রগ্রামঃ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূলের বহিঃনোঙর এলাকায় ভোরবেলায় পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে বড় ধরনের চোরাচালান চক্রের তৎপরতা ভণ্ডুল করে দিয়েছে কোস্ট গার্ড ও থানা পুলিশ। অভিযানে ৫৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দের পাশাপাশি চারজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল প্রায় ৬টার দিকে পতেঙ্গা থানাধীন সীবিচ সংলগ্ন গভীর সমুদ্র বন্দর ‘আলফা এরিয়া’তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতরা হলেন— জামাল উদ্দিন (৬০), আব্দুল মালেক (৫০), মো. জাফর (৪০) এবং মো. এনাম (৩২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথে পণ্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয় বহিঃনোঙর এলাকায়। এরই ধারাবাহিকতায় ভোরে একটি সন্দেহজনক কার্গো বোট শনাক্ত করা হয়, যেখান থেকে একটি ফিশিং বোটে দ্রুতগতিতে সিমেন্টের বস্তা স্থানান্তর করা হচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

জব্দকৃত ৫৫০ বস্তা সিমেন্টের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া চোরাচালানে ব্যবহৃত কার্গো বোট ও ফিশিং বোট দুটি জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এসব সিমেন্ট অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি ও বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত আছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পরিবহন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া